সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, দাবি হুথিদের
Published : ১১:৫৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। তাদের দাবি, সৌদি সীমান্তের কাছে শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি সপ্তাহে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর শনিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় হুথিদের অবস্থানে হামলার কথা জানায়।
পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ এলাকাতেও হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, সেখানে হুথিদের অবস্থান ও ব্যারাক লক্ষ্য করে তিন দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে হুথিদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের ‘শত্রু বিমান’ ১২৯টি হামলা চালিয়েছে।
এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষও শনিবার রাতে হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের কাছের এলাকায় পড়ার কথা জানিয়েছে।
দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এতে দুজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আগে এক সপ্তাহ ধরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় হুথিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের শেষ পর্যায়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বাকি অংশ এবং কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এর ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
ইরানের মিত্র হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দাব আরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হয়ে উঠেছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে খবর এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ করেছিলেন।
তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার ট্রাম্পও স্বীকার করেন, তিনি সৌদি আরবের কার্যত শাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হুথিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।
তবে হুথিদের বিষয়ে ওয়াশিংটন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা শনিবার জানিয়েছে, জুলাই থেকে সংঘাতের কারণে ৭৬ হাজার মানুষ ঘর ছেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে এই সংখ্যা চার গুণ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মোখা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর অনেক বাসিন্দা এডেনে চলে যান।
এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ জিবুতিতেও পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালে।
উভয় পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা স্তিমিত থাকলেও পরে আবার তা তীব্র হয়ে ওঠে।
২০১৫ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয়। এখনো তারা এডেনভিত্তিক সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
২০২৫ সালে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহ ধরে গোষ্ঠীটির ওপর বোমা হামলা চালায়। পরে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হয়।
তবে হুথিরা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো অব্যাহত রাখে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার পর তারা লোহিত সাগরে জাহাজেও আবার হামলা শুরু করেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি-সমর্থকেরা ২১০ বন্দির মুক্তি উদ্যাপন করেছেন।
হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া এলাকায় আটক এসব বন্দীর কেউ কেউ আট বছর পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।

































