পুলিশ হত্যার বিচার চাইব না, আমাকে বাচ্চার কাছে যেতে দিন

পুলিশ হত্যার বিচার চাইব না, আমাকে বাচ্চার কাছে যেতে দিন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:২৫, ২ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন এবং বারবার তার সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান।

এদিন সকালে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে শোয়াইবুর রহমান বলেন, পুলিশে চাকরি করার সময় তিনি এমন কোনো কাজ করেননি, যার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।

তিনি পুলিশ বিভাগকে উদ্দেশ করে বলেন, তাকে যেন ক্ষমা করা হয়। তিনি আরও জানান, সহকর্মীদের হত্যার বিচার চেয়েছিলেন, তবে এখন আর তা চান না। তিনি সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানান এবং বলেন, তার একটি ছোট সন্তান রয়েছে, যার কাছে ফিরে যেতে চান।

নিজ বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তিনি। তিনি বলেন, একজন সৈনিকের সন্তান হিসেবে তাকে যেন ক্ষমা করা হয়। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই এবং যদি প্রমাণ হয় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইজিপি বা পুলিশ কমিশনার বিষয়টি না জানলে কেন তাকে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

এদিন রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ আদালতে তাকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরনী মীর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরার বিটিভি ভবনের পাশ এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় আবু নোমান নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনি সুস্থ হয়ে রামপুরা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সংগঠিত হয়ে আলোচনায় আসেন কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান। পরবর্তীতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement