আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
Published : ০১:৫০, ২১ মে ২০২৬
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের আর্থিক খাতে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটারস’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এতে সহযোগিতা করে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব) এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থাগুলোর অনেকগুলোই দীর্ঘদিন ধরে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর ফলে অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন এবং নজরদারি ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি এখন একটি সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে।
ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর আর্থিক প্রতিবেদন ও ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে। এতে প্রকৃত ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন ও বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান দুর্বলতার কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে পরিচালিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোকে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করা হয়েছে। এই স্বার্থের সংঘাত দূর করে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
পেশাগত দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আইক্যাব ও আইসিএমএবির সদস্যদের মধ্যে কঠোর স্ব-নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার মূল দায়িত্ব হিসাববিদদেরই নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জেপি মরগান চেজসহ লন্ডন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসরণ এবং নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যদি মনে করেন আর্থিক প্রতিবেদন মানসম্মত নয়, তাহলে সেখানেই সব শেষ।”
অর্থমন্ত্রী টেকসই ও পেশাদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিসাববিদ, নিরীক্ষক, মূল্য নির্ধারক, অ্যাকচুয়ারি এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।


































