বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী
Published : ১০:৪৩, ১৯ মে ২০২৬
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বড় আকারের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
নতুন এডিপিকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতের স্থবিরতা কাটিয়ে সামনে এগোতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণেই সরকার এ বৃহৎ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী। “আমরা মাত্র তিন মাসেই দেখিয়েছি যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে,” বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গে একটি নলকূপের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে গেলে যেমন নলকূপে আগে পানি ঢালতে হয়, তেমনি বিনিয়োগ ছাড়া দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী, ফান্ড ম্যানেজার ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সাম্প্রতিক বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জেপি মর্গানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা দেখে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, গতিশীলতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ মানচিত্রে নতুনভাবে তুলে ধরছে।
কর-জিডিপি অনুপাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে একটি। তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে হলে কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ জরুরি।
তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সংস্কার কার্যক্রম চলছে এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আরও বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসে।
মন্ত্রী বলেন, বেশি মানুষ করের আওতায় এলে উন্নত সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের সহায়তা নিশ্চিত করছে।
অর্থমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকারের উন্নয়ন কৌশলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি শিক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


































