দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নেই আগামী বাজেটের অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী
Published : ০১:২০, ৩ জুন ২০২৬
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ নীতিকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জাতীয় বাজেটে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত ছিল নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী। তাই এবারের বাজেটে দরিদ্র পরিবার, গৃহিণী এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ না থাকে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ এখনো জনগণকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় সরকার সর্বজনীন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও থিয়েটারকর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অনুমোদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
পুঁজিবাজার সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর আশা, অভিজ্ঞ ও পেশাদার নেতৃত্বের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।



































