লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম
Published : ১১:৩৩, ৩ এপ্রিল ২০২৬
ঈদুল ফিতরের আগেই বাজারে ধীরে ধীরে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল, আর ঈদের পরও সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামেনি। গত এক সপ্তাহে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
একই সময়ে খোলা পাম তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কিছু সবজির দামও বাড়তির দিকে গেছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিতে। ফলে মিলগেটে বা পরিশোধন পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তথাকথিত সংকট, যার কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তেলের দামে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, তেজকুনীপাড়া বাজার এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজারে খোলা সয়াবিন তেল কেজি ও লিটার—উভয়ভাবে বিক্রি হয়ে থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও তা ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে ছিল।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, মাত্র এক সপ্তাহেই লিটারপ্রতি দাম প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদের আগের সপ্তাহে এই দাম আরও প্রায় ১০ টাকা কম ছিল। একইভাবে খোলা পাম তেলের দামও এক সপ্তাহে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ১৭৫ টাকার কাছাকাছি।
সবশেষ গত ডিসেম্বরে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম নির্ধারণ করে যথাক্রমে ১৭৬ ও ১৬৬ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে এই দুই ধরনের তেলই ঘোষিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। আর গত বছরের তুলনায় বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ১১ শতাংশ বেশি।
দেশীয় ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলোর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের জন্য আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে এখনো সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ানো হয়নি। যদিও ডিলার পর্যায়ে দাম কিছুটা বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ছে। কোথাও কোথাও সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় দেড় মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। যেমন— কারও দরকার দুই লিটার, কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ লিটারের বোতল। ফলে সীমিত ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা সয়াবিন তেলের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু খোলা তেলের দামও বাড়তে থাকায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
রাজধানীর তেজকুনীপাড়ার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সেলিম মিয়া বলেন, “আমাদের বাসায় সাধারণত বোতলজাত সয়াবিন তেলই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দোকানে গেলে ছোট বোতল পাওয়া যায় না। তাই খোলা তেল কিনতে হচ্ছে। এখন সেটার দামও বাড়ছে, যা আমাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।”
বিডি/এএন


































