অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে: আইসিটি মন্ত্রী
Published : ০২:২৪, ২২ এপ্রিল ২০২৬
‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনের কার্যক্রমে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। প্রশ্নে তিনি জানতে চান, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই অনুমতি ছাড়া ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে—এ বিষয়ে সরকার কী ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জবাবে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আইনের ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে ভিডিও, ছবি বা তথ্য প্রকাশ, প্রচার বা প্রচারের হুমকি দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই অপরাধে ধারা ২৫(২) অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তবে ধারা ২৫(৩) অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, চাঁদা দাবি বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ধারা ২২-এর আওতায় পড়বে, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখবেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারবেন।
তিনি জানান, কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার ক্লাউডভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে।
মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরিচালিত সাইবার অপরাধীদেরও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচারসহ সাইবার স্পেসে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।


































