২৬ দিন পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি, স্বস্তি জ্বালানি খাতে
Published : ২০:০৪, ৮ মে ২০২৬
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ সংকট কাটিয়ে ২৬ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড।
আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শোধনাগারটির মূল প্ল্যান্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত।
তিনি জানান, কুতুবদিয়ায় নোঙর করা ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্ল্যান্ট চালুর পর কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হতে। ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যাবে শোধনাগারটি।
সূত্র জানায়, ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত বুধবার কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান।
জাহাজটি বড় আকারের হওয়ায় কর্ণফুলী নদী হয়ে সরাসরি বন্দরের ডলফিন জেটিতে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে ছোট ট্যাংকার জাহাজের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তেল খালাস করে শোধনাগারে নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ক্রুড অয়েলের চালান এসেছিল। পরবর্তীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মজুদ শেষ হয়ে গেলে গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, নিরাপদে জাহাজটি দেশে পৌঁছেছে এবং কাস্টমস ও সার্ভেয়ার সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আনতে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের একটি জাহাজে থাকা আরও এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। হরমুজ প্রণালীতে চলমান অস্থিরতার কারণে সেটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি।
দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে থাকে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।
বাংলাদেশে জ্বালানি ব্যবহারের মধ্যে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং বিমান চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি হয়েছে।


































