সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্প্রসারণে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্প্রসারণে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিমবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত। ছবি : পিআইডি

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:১৮, ১৩ মে ২০২৬

Headline: সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্প্রসারণে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিমবিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আজ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং অর্থ বিভাগ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’— এই চারটি পেনশন প্রকল্পের আওতায় মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বৈঠকে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং প্রবীণ নির্ভরশীলতার হার ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এই বাস্তবতায় অংশগ্রহণকারীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অর্থমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রত্যেকটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে পেনশন প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

তিনি শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, মনোনীত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং ‘প্রগতি’ প্রকল্পের আওতায় আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহজ শর্তের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে।

বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ   এবং টেলিটক এর মাধ্যমে পেনশন চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম অংশ। তিনি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement