সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি প্রকল্প খতিয়ে দেখতে ৬ সদস্যের কমিটি

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি প্রকল্প খতিয়ে দেখতে ৬ সদস্যের কমিটি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:৫১, ২৬ আগস্ট ২০২৬

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রসেসিং সক্ষমতা ও বর্তমান কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কমিটিকে প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যান্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিপিসির সচিব ও সরকারের উপসচিব শাহিনা সুলতানার সই করা এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, অপারেশন বিভাগ থেকে নোট অনুমোদনের পর কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির আদেশ অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব করা হয়েছে বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন শাখার উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেনকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মাসুদুল আলম।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কমিটি সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রসেসিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।

কমিটি গঠনের আদেশের সঙ্গে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিপিসির নথি অনুযায়ী, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’-এর আওতায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ এবং উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।

ওই আবেদনের পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় বিপিসি একটি কমিটি গঠন করে। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন কর্মকর্তাকে কমিটিতে কো-অপ্ট করা হয়।

২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটির সদস্যরা কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের জুলধা ইউনিয়নে অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিআরইউ প্ল্যান্ট ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন ও আবেদন পর্যালোচনার পর কমিটি ৮ এপ্রিল বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২০ এপ্রিল প্রতিবেদনটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর নতুন করে আবেদন করেন সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার।

নতুন আবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইউরো-৫ মানের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮১ মেট্রিক টন।

আবেদনে ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিটের পাশাপাশি ডিজেল হাইড্রোট্রিয়েটার, রিসিডিউ ডিসালফারাইজেশন এবং আইসোমারাইজেশন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন আবেদনের পর ৩ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসির কাছে মতামত চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।

বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ইউনিট-২ প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এ কারণে সুপার পেট্রোকেমিক্যালকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে বোর্ড মত দেয়।

এদিকে, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের নতুন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিপিসি নতুন করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি প্ল্যান্ট পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, প্রসেসিং সক্ষমতা ও অগ্রগতি যাচাই করবে।

কমিটির সদস্য সচিব তানজিন হোসেন বলেন, ‘এখন কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটি পুরো বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেবে।’

প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করে কমিটি সাত দিনের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement