দেশে প্রথমবার কৃত্রিমভাবে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সফলতা

দেশে প্রথমবার কৃত্রিমভাবে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সফলতা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৫৫, ১৬ আগস্ট ২০২৬

দেশে প্রথমবারের মতো কৃত্রিমভাবে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে মৎস্য অধিদফতর। কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত সরকারি কাঁকড়া হ্যাচারির এই সাফল্য দেশের নীল অর্থনীতি, কাঁকড়া চাষ ও রফতানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে কাঁকড়ার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁকড়া রফতানি করে বাংলাদেশ প্রায় ৮৮৭ কোটি টাকা আয় করেছে। তবে এতদিন কাঁকড়ার পোনার জন্য মূলত প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে একদিকে প্রাকৃতিক মজুত কমছিল, অন্যদিকে জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ছিল।

এই সংকট মোকাবিলায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কক্সবাজারের কলাতলীতে দেশের প্রথম সরকারি কাঁকড়া হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর সেখানে পরিশোধিত লবণাক্ত পানিতে মা কাঁকড়া থেকে ডিম সংগ্রহ, লার্ভা প্রতিপালন ও পরিচর্যার মাধ্যমে সফলভাবে কাঁকড়ার পোনা বা ক্র্যাবলেট উৎপাদন করা হচ্ছে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই হ্যাচারিতে প্রায় ২০ হাজার ক্র্যাবলেট উৎপাদন হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। উৎপাদিত পোনা বিনামূল্যে চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগ্রহী চাষি ও নতুন উদ্যোক্তাদের আধুনিক কাঁকড়া চাষ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাঁকড়া চাষের সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

বাংলাদেশ এর আগে চিংড়ি চাষ ও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এবার কৃত্রিমভাবে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সফলতা দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কক্সবাজারের সরকারি কাঁকড়া হ্যাচারির এই সাফল্য শুধু গবেষণার একটি অর্জন নয়; দেশের নীল অর্থনীতি ও কাঁকড়া রফতানি শিল্পের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিটি দেশের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পারলে কাঁকড়া চাষ ও রফতানি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement