মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী
Published : ১৬:৩৫, ২০ এপ্রিল ২০২৬
দেশের মাধ্যমিক স্তরের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। এবছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন ছাত্রী রয়েছে। পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানান, পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র পরিবহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র এবং সহজ বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৪২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জনে।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রসচিবদের প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে এবং কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেন্দ্রে নিতে পারবেন না।
প্রতি বেঞ্চে নির্দিষ্টসংখ্যক পরীক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা, প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক নিয়োগ, টয়লেট তল্লাশি এবং কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের জটলা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চায়। কড়াকড়ি ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য।
সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে।



































