শিক্ষায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত: তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, উচ্চশিক্ষায় ঋণ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার রূপরেখা বাজেটে

শিক্ষায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত: তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, উচ্চশিক্ষায় ঋণ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার রূপরেখা বাজেটে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০৭, ১১ জুন ২০২৬

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তি, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ সুবিধা, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতা ও কর্মমুখী অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক সংস্কার কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

ভাষা শিক্ষায়ও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি এবং জার্মান ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের জন্য স্নাতক (পাস) পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার উদ্যোগও বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে সারাদেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগও থাকবে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যচর্চা এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement