মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:২৯, ১২ জুন ২০২৬

দেশকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী  এ প্রস্তাব দেন।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সে তুলনায় নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয় হিসেবে ৩২ হাজার ৮৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ২৪ হাজার ৪৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনায় শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৫ হাজার নতুন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১০০টি বিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড ল্যাব স্থাপন এবং ল্যাব সুপারভাইজর নিয়োগ দেওয়া হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে পাঁচটি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ মডিউল ও একটি জাতীয় রিসোর্স পুল গঠন করা হবে। এছাড়া সারাদেশে ৫০০টি আধুনিক ভাষা ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার নতুন ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষাসেবায় পিছিয়ে থাকা এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৪৮৫টি টয়লেট নির্মাণ এবং ১ হাজার ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২১৮টি একাডেমিক ভবন, ২১টি প্রশাসনিক ভবন, ৩৮টি বহুমুখী ভবন এবং ৬০টি আবাসিক হল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সরকারের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক অবকাঠামো এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তোলা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement