এআই ভিডিও নিয়ে সরব জাহ্নবী, বললেন ‘সম্মতি ছাড়া কনটেন্ট ছড়ানো যৌন নিপীড়নের রূপ’
Published : ১৪:০৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬
‘দেবারা’ সিনেমায় জুনিয়র এনটিআরের বিপরীতে অভিনয় করে আলোচনায় আসা বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর এবার এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছেন। সিনেমাটির জনপ্রিয় ‘চুট্টামাল্লে’ গানের দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি একটি আপত্তিকর এআই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় জাহ্নবী বলেন, নারীদের সম্মতি ছাড়া তাদের বিকৃত বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়, তার দৃষ্টিতে এটি যৌন নিপীড়নেরই আরেকটি রূপ। তিনি দাবি করেন, বিনোদনজগতের অনেক নারীই এ ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
নারীর শরীর, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও সম্মতির গুরুত্ব তুলে ধরে জাহ্নবী বলেন, একজন নারী কোনো বিষয়ে একাধিকবার সম্মতি দিলেও পরবর্তী সময়ে তার ‘না’কে সম্মান করা বাধ্যতামূলক। পোশাক বা ব্যক্তিগত পছন্দকে কখনোই তার শরীরের ছবি ধারণ কিংবা অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপনের অনুমতি হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, একজন নারী কোথায় নিজের সীমারেখা নির্ধারণ করবেন, কোন বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন—এসব তার একান্ত ব্যক্তিগত অধিকার।
সাম্প্রতিক এআই ভিডিওর ঘটনা বৃহত্তর একটি সমস্যার অংশ বলেও উল্লেখ করেন জাহ্নবী। তার ভাষ্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের হুমকি ও হয়রানি বাড়লেও বাস্তব জীবনেও নারীর নিরাপত্তা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু নারীদের নিরাপত্তার ওপর জোর না দিয়ে পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। অন্যের সীমারেখা ও সম্মতিকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পুরুষদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জাহ্নবী।
এআই-নির্মিত ওই ভিডিওর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় জুনিয়র এনটিআর ও চিরঞ্জীবীকে ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো অন্য তারকাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বার্তার শেষদিকে জাহ্নবী নারীদের মানুষ হিসেবে সম্মান করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের মূলকথা—একজন নারীর শরীরের মতো তার ছবি, ব্যক্তিগত সীমারেখা ও সিদ্ধান্তের অধিকারও তার নিজের।

































