আকাশসীমা ব্যবহারে যুগান্তকারী পরিবর্তন: রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড এভিয়েশন খাতের
Published : ১১:৩৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬
আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি উড়োজাহাজের ওভারফ্লাই ফি থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আয় করেছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন রাডার ও আধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলের নজরদারি আরও কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিদেশি উড়োজাহাজের ওভারফ্লাই শনাক্তকরণ এবং নির্ধারিত ফি আদায়ের সক্ষমতাও বেড়েছে। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধিরও ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ছয় মাসে আয় ৪১৬ কোটি টাকা
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ওভারফ্লাই ফি থেকে আয় হয় ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা। পরবর্তী ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকা।
অর্থাৎ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে। জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা আয় হয়। ফেব্রুয়ারিতে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ, মার্চে ৬২ কোটি ১৮ লাখ, এপ্রিলে ৬৭ কোটি ৫৩ লাখ, মে মাসে ৭০ কোটি ৪৮ লাখ এবং জুনে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
নতুন রাডারে পুরো আকাশসীমায় নজরদারি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এটিএমসি) ও আধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। ফরাসি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলস এই ব্যবস্থা নির্মাণ ও স্থাপনে যুক্ত ছিল। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে নতুন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আকাশসীমা আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আগের রাডার ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণে বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ওভারফ্লাই ফি এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো বিদেশি উড়োজাহাজ অন্য দেশে যাতায়াত করলে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ফি দিতে হয়। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) নিয়মেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য এয়ার রুট নেভিগেশন সুবিধার চার্জ নির্ধারিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে উড়োজাহাজ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তিকে রাজস্ব বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বৃদ্ধি এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যাও আয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটের কাছাকাছি অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তাই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা গেলে নিরাপত্তা ও উড়োজাহাজ চলাচলের দক্ষতার পাশাপাশি ওভারফ্লাই ফি থেকে রাজস্ব আদায়ের সুযোগও বাড়বে।
নতুন রাডার ও এটিসি ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা থেকে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।































