হঠাৎ জেন-জির মতো রিলস বানাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি
Published : ১৯:০৩, ২২ আগস্ট ২০২৬
তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের ধরন বদলাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘদিন ধরে লিখিত ভাষণ, আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে যে ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে তার তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে তাকে।
তরুণদের জনপ্রিয় ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে এখন মোদির টাইমলাইনে যুক্ত হচ্ছে তুলনামূলকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্ট। ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধাঁচের রিল, সেলফি ভিডিও এবং তরুণদের ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধনের মতো বিষয়ও দেখা যাচ্ছে তার পোস্টে।
ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর বিজেপি তরুণদের অনলাইন সক্রিয়তার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ব্যঙ্গাত্মক এই আন্দোলন মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একপর্যায়ে রাজপথেও প্রভাব ফেলে এবং এর জেরে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে। এতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তরুণদের রাজনৈতিক প্রভাব বিজেপির নজরে আসে।
ভারতের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ফলে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেন-জি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠী হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ইনস্টাগ্রামসহ তরুণদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
তবে মোদির নতুন ধরনের ভিডিও নিয়ে তরুণদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই এগুলোকে রাজনৈতিক বার্তার পরিবর্তে হাস্যরসাত্মক বা ‘ক্রিঞ্জ’ কনটেন্ট হিসেবে দেখছেন। তার প্রথম সেলফি ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হয় এবং ভিডিওটি বিভিন্নভাবে সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুধু মোদির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নয়, বিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলোতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে মিম, স্ল্যাং ও পপ-কালচারের বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করছে দলটি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির পুরোনো ডিজিটাল কৌশল মূলত হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম দর্শকের প্রতিক্রিয়া, শেয়ার, মন্তব্য, পুনরায় দেখার প্রবণতা এবং ভিডিও দেখার সময়কে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে এখানে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত কৌশল সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা অর্জন এবং নির্বাচনে জয়—দুটি ভিন্ন বিষয়। বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও নিজস্ব ভোটব্যাংক এখনো নির্বাচনী সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একইভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সেলফি ভিডিও ও ইনস্টাগ্রামভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন ডিজিটাল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিজেপির কিছুটা সময় লাগবে। তবে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পডকাস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সার সাক্ষাৎকারের মতো নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগমাধ্যম দ্রুত গ্রহণ করার অভিজ্ঞতা থাকায় ভবিষ্যতে ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক রাজনীতিতেও দলটি কৌশল পরিবর্তন করতে পারে।































