গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ ১৫ টুকরো করা হয় কাস্টমস কর্মীর মরদেহ
Published : ২০:৪৪, ২৬ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের নয় দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাকিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, কাঠের তৈরি একটি খাটিয়া এবং রক্তমাখা পাঞ্জাবি।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুল। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলস্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম হাসান ইস্রাফীল গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব রায়হান ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি ফুলবাড়ীয়ার গ্রামের বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার ভোরে কর্মস্থলে ফিরে যেতেন।
গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ২৭ জুলাই রাতে তার বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি করার পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুলও এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, টাকার লোভে রাকিবকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
পুলিশ জানায়, রাকিবের মরদেহ একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি মাংস কাটার খাটিয়ার ওপর টুকরো টুকরো করা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহ ব্যাগ ও বিছানার চাদরে মুড়িয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও রাকিবের বাড়িতে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ২ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাকিব রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তাঁর মা রাহেলা খাতুন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাকিব বিবাহিত ছিলেন। কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে ২৩ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়।
































