চারণভূমি সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
Published : ১৮:৩৭, ২৬ আগস্ট ২০২৬
চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘ মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে খাস ও কমিউনিটি জমির সুরক্ষা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রচলিত অর্থে বিস্তীর্ণ চারণভূমির দেশ নয়। তবে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকায় প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফসল কাটার পর কৃষিজমি, পতিত জমি, চরাঞ্চল, জলাভূমি ও সড়কের পাশের বিভিন্ন স্থান পশুচারণে ব্যবহৃত হয়। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ এবং লাখো মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার চাপ ও ভূমির বিভিন্নমুখী ব্যবহারের কারণে পশুচারণের জায়গা ক্রমেই কমছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে চারণভূমি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কমিউনিটি ও খাস চারণভূমি চিহ্নিত ও মানচিত্রভুক্ত করা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জলাভূমি ও বন্যাপ্রবণ এলাকার পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এসব অঞ্চল মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানি নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে জাতীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফলাফল দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে ধারাবাহিক অর্থায়নের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।


































