বম্বে সুইটসের ৫ মসলা ও ৫ ধরনের ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের
Published : ১৯:০৩, ২৬ আগস্ট ২০২৬
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চার ধরনের ঘি ও এক ধরনের বাটার অয়েলসহ মোট ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব পণ্যের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে বিএসটিআই। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান ঠিক পাওয়া গেলেও কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে ‘ঘি’র মূল উপাদান মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। সংস্থাটির দাবি, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল। একইভাবে বম্বে সুইটসের বিভিন্ন মসলায় বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত কয়েকটি প্যারামিটারে ঘাটতি পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ক্রেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে ১৬১১৯ নম্বরে ফোন অথবা [email protected] ই-মেইলে জানাতে বলা হয়েছে।


































