বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠকে তিন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠকে তিন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছবি : সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেক্স

Published : ১৫:২০, ২২ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, শিক্ষা, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত, সীমিত এবং সম্প্রসারিত পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সফর শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা।

দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে।

সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। এছাড়া প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়মিত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান।

শিক্ষা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সমন্বয় এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও দুই দেশ সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এছাড়া জ্বালানি খাতে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং শ্রমবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংক্ষিপ্ত হলেও এ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জনশক্তি খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement