প্রক্সি দিয়ে পাস, চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ২
Published : ১৯:৪৮, ২২ জুন ২০২৬
প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে কর অঞ্চল-নোয়াখালীর দুই চাকরিপ্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তাদের জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
রোববার (২১ জুন) রাতে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে অবস্থিত কর অঞ্চলের কার্যালয়ে কাগজপত্র যাচাই ও হাতের লেখা পরীক্ষার পর দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটকরা হলেন ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে নির্বাচিত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন এবং ‘অফিস সহায়ক’ পদে নির্বাচিত কামাল উদ্দিন। নাসফুর উল্যাহ সদর উপজেলার চরমোটুয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর এলাকার বাসিন্দা এবং কামাল উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার গুল্যাখালী এলাকার বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ জুন কর অঞ্চল-নোয়াখালীর বিভিন্ন পদে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের ২১ জুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
যোগদান করতে আসা দুই প্রার্থীকে দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কারণ, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের চেহারার মিল পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও হাতের লেখা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন।
পরে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সঙ্গে তাদের ১২ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। ওই চক্র সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে থাকে। সন্দেহ এড়াতে আবেদনপত্রে প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর ছবি সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অফিস সহায়ক পদে নির্বাচিত কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মো. জুলফিকার আলী রায়হান নামে এক ব্যক্তির ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় এবং তার হয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অন্য একজন অংশ নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর জানান, আটক দুই ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত বৃহত্তর জালিয়াত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
































