বিচারাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে: তথ্য উপদেষ্টা
Published : ১৬:৪৮, ২৩ জুন ২০২৬
জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠপর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দলটি চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। এ সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, তা আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচারিক ফলাফলের ভিত্তিতেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।”
রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমানে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মতো নৈতিক অবস্থান নেই। তার ভাষায়, জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির পর জনগণের সামনে দলটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বড় ধরনের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা না থাকলেও তাদের হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। এসব অর্থ ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা না যায়, সে লক্ষ্যেই কয়েকটি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও বক্তব্য দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল কি না, সেটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং আদালতের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধে জড়িত না থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকে, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই দলীয় ব্যানার, প্রতীক বা রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।



























