কড়া নিরাপত্তায় ধানমন্ডি ৩২, জামায়াতের মিছিল থেকে হামলায় সাংবাদিক আহত
Published : ১২:১৮, ২৩ জুন ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই দিনে সেখানে আওয়ামী লীগবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মিছিল-পরবর্তী এক ঘটনায় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। এলাকাজুড়ে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে যাতে কোনো ধরনের কর্মসূচি বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে আওয়ামী লীগবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সিগন্যাল থেকে শুরু হয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মোড় ঘুরে পুনরায় একই এলাকায় এসে শেষ হয়।
মিছিলে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের আমির মুস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, কর্মপরিষদ সদস্য আনিসুজ্জামান এবং কলাবাগান থানা জামায়াতের আমির জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
মিছিল শেষে ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন সাংবাদিককে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে আখ্যা দেওয়া হয়। পরে দৈনিক সকালের প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমান শিশিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন এবং তার মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান খান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তার দাবি, কর্মসূচির মধ্যে বহিরাগত কেউ প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ২৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

































