নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম চোখে পড়া জাতির ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী
Published : ১৮:৪৪, ২৩ জুন ২০২৬
নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম জনসমক্ষে দৃশ্যমান হওয়া জাতির জন্য কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা যদি চোখে পড়ে, তবে তা জাতির ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চর গলগলিয়া এলাকায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “একসময় এটি একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিন্তু জনআকাঙ্ক্ষা ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তারা আজ পরিত্যক্ত, জনগণের দ্বারা বর্জিত এবং সর্বশেষ নিষিদ্ধ হয়েছে।”
নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা দৃশ্যমান হওয়া উচিত নয়। যদি তা চোখে পড়ে, তাহলে সেটি জাতির ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।”
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, “জনগণই রাজনৈতিক দলের বৈধতা দেয়। আইন এবং জনগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই একটি বিষয় নির্ধারিত হয়। জনগণ যেমন তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তেমনি আইনও তাদের নিষিদ্ধ করেছে। তাই নিষিদ্ধ কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা না করাই শ্রেয়।”
রেলের জমিতে ১ লাখ ৬০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন জমিতে ১ লাখ ৬০ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন দখলকৃত জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এক একরের কম জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হবে, আর বড় জমিগুলো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “তিন একরের বেশি আয়তনের জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার যত্রতত্র গাছ লাগাচ্ছে না; কোথায় কী ধরনের ব্যবহার করলে জাতীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত হবে, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, রেলওয়ের জমিতে পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে। চর গলগলিয়া এলাকায় একটি বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



























