হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের

হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের ছবি : সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেক্স

Published : ১৭:১৩, ২৩ জুন ২০২৬

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনার পর ইরান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পৃথক কারিগরি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনাকে সংঘাত নিরসনের সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির জন্য “খুব ভালো ভিত্তি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য নিঃশর্তভাবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং এটি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড় এবং তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। তবে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, এখনো কোনো সম্পদ আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়নি।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ইরানকে অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে।

আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কারিগরি ও কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শন পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। যদিও ইরান জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো সমঝোতা হয়নি।

অন্যদিকে লেবানন ইস্যুতেও অগ্রগতি দেখা গেছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ সমন্বয় সেল গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement