বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম
Published : ১৭:৪৪, ২৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি এবং ইরানের তেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে এলএনজি রফতানি টার্মিনালগুলোতে সরবরাহ বাড়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও চাপ দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি এবং ইরানি তেলের ওপর ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে এবং তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমে এসেছে। মাসিক হিসাবে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাসিক হিসাবে এই সূচকের তেলের মূল্য কমেছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
তবে তেলের বাজারে মূল্যহ্রাস দেখা গেলেও গ্যাসোলিনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও মাসিক হিসাবে গ্যাসোলিনের দাম এখনও ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কম রয়েছে।
এদিকে, এলএনজি রফতানি কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সামান্য কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসের দাম ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কমে প্রতি এমএমবিটিইউ ৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমেছে। তবে মাসিক ভিত্তিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য এখনও ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি এবং নিষেধাজ্ঞা নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

































