‘পুলিশকে হতে হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত’, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Published : ০২:১৩, ৩ আগস্ট ২০২৬
রাজশাহী: পুলিশ বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়; বরং দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন বাস্তবতায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের সব ধরনের অনিয়ম থেকে দূরে থেকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
তিনি ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জনগণের প্রকৃত বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মূল্যবোধ ধারণ করে নবীন কর্মকর্তারা একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এর আগে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ‘বেস্ট একাডেমিক’ এবং এ, বি, এম মামুন ‘বেস্ট শ্যুটার’ পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।






























