তীব্র গ্যাস সংকট বিপর্যস্ত শিল্প ও পরিবহন

তীব্র গ্যাস সংকট বিপর্যস্ত শিল্প ও পরিবহন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৩, ৩০ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে দেশ। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শিল্প, পরিবহন এবং আবাসিক খাতজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি। সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায়, আর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।

রাজধানীর অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশন গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে আংশিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, আবার কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রেখেছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় যানবাহন চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তাদের আয়ও কমে গেছে।

ফিলিং স্টেশন-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগে যে পরিমাণ গ্যাস কয়েক মিনিটে সরবরাহ করা যেত, এখন একই সময়ে তার অর্ধেকও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিক্রি কমে গেছে, ফলে পরিচালন ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পোশাক, ডাইং ও নিটিং শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কোথাও আবার শ্রমিকদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।

শিল্প মালিকদের অভিযোগ, গ্যাসচালিত বয়লার, জেনারেটর ও উৎপাদনযন্ত্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল ব্যবহার করছে, এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে বিমানপথে পণ্য পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নরসিংদীতেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতও সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংকটের মধ্যেও কিছু সিএনজি স্টেশনে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

নারায়ণগঞ্জেও এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট। জেলার প্রায় সাড়ে ৫০০ গ্যাসনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ডাইং ও গার্মেন্টস কারখানাগুলোর উৎপাদন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে জেলার ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহন জানিয়েছেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এদিকে ভোক্তা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শিল্প মালিকরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement