আগস্টেই হতে পারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

আগস্টেই হতে পারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৩৫, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমা মেনে আগামী আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও দলটির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম সামনে এলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য জাতীয় সংসদের পরবর্তী নিয়মিত অধিবেশনের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আগস্টের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং রাজনৈতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো দলের স্থায়ী কমিটিতে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিই নেবে। দলীয় বা নির্দলীয়—যে ধরনের প্রার্থীই বিবেচনায় আসুক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলীয় ফোরামের মাধ্যমেই।

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।

সম্প্রতি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে দলীয় সূত্রের ভাষ্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেই।

দলটির অভ্যন্তরে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় রাজনীতির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রেখেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন।

তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সরকার ও বিএনপি—উভয় ক্ষেত্রেই সাংগঠনিক পরিবর্তন আসবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সংসদীয় আসনও শূন্য হবে, ফলে সেখানে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement