২৫ দিনের তীব্র গ্যাসসংকটের পর কিছুটা স্বস্তি, বাড়ল সরবরাহ
Published : ১১:৫২, ১৫ আগস্ট ২০২৬
টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাসসংকটের পর দেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক সক্ষমতায় চালু হওয়ায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস দিচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ঘণ্টায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়ে যায় লোডশেডিংও।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রুটি মেরামত করে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এটি চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। এতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ কাজ কবে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত সোমবার সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ কমে যায়। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার বিকেলে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়।
সামিটের টার্মিনালে থাকা মজুত এলএনজি দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট। পরে শনিবার ভোরে তা বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে সামিটের।
দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে মোটামুটি সব খাতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। সামিট ও এক্সিলারেটের সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে গ্যাসের ঘাটতি আরও কমবে। তবে জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় লোডশেডিংও কমেছে। তবে গরম বাড়লে আবারও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।






























