ঠাকুরগাঁওয়ে ৮০ পেরোনো বৃদ্ধার জমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে ৮০ পেরোনো বৃদ্ধার জমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৩৪, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় ৮০ বছরের বেশি বয়সী সংখ্যালঘু বৃদ্ধা সুশিলা রাণীর জমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না তিনি। নিজের সম্পত্তি ভোগদখল থেকে বঞ্চিত হয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটছে তার।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়।

পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূরসম্পর্কের ভাস্তে বিকাশ চন্দ্র সরকার তার সম্পত্তি নিয়ে নানা ধরনের অন্যায় করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও বৃদ্ধা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সুশিলা রাণীর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। তাদের দাবি, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কর্মকাণ্ডে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার মাস্টারের আশ্রয়-সহযোগিতা রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পরিচয় বদলালেও জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। তাদের কোনো অভিভাবক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের ভিটেমাটি নিয়ে অন্যায় করেছেন। তার অভিযোগ, তার মাকে মারধর করে রক্তাক্তও করা হয়েছে। একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

শোভা রাণী আরও অভিযোগ করেন, তার কাকাতো ভাই বিকাশ চন্দ্র সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্যায় করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হলেও কীভাবে একই ধরনের ব্যক্তিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে থাকেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিকাশ চন্দ্র সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

তবে তার বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার মাস্টার। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় তাকে জড়ানো হয়েছে। কোনো বিচার-সালিশেও তিনি অংশ নেননি বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, এটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ হওয়ায় আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, উপজেলা সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে। দলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সুশিলা রাণীর পরিবার নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি জরাজীর্ণ ঘরের বারান্দায় বসে স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় বৃদ্ধাকে।

জীবনের শেষ সময়ে নিজের ভিটায় শান্তিতে বসবাস এবং সেখানেই শেষ জীবন কাটানোর ইচ্ছা সুশিলা রাণীর। এ জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement