ভোলার নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, জেলেদের মুখে স্বস্তির হাসি
Published : ১৭:৪০, ১৫ আগস্ট ২০২৬
উপকূলীয় জেলা ভোলার নদ-নদীতে আবারও দেখা মিলেছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের। দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পাওয়ায় হতাশায় থাকা জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন ফিরেছে স্বস্তি। নদীতে ইলিশের প্রাচুর্যে জেলে পল্লি ও মাছঘাটগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
জেলেরা জানান, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, ইলিশা, কালাবাদর ও বুড়াগৌরাঙ্গসহ ভোলার বিভিন্ন নদীতে গত কয়েক দিন ধরে আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। জালে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ পাওয়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে জেলেদের। বিশেষ করে শুক্রবার রাত থেকে অনেক জেলের জালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে।
শনিবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর, ইলিশা, তুলাতুলি ও ভেদুরিয়াসহ তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও পরিবহনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন পর কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে দেখা গেছে আনন্দ ও স্বস্তি।
জেলে মালেক মাঝি, শরিফ, মাইনউদ্দিন, কালাম ও ছিডু মাঝি জানান, ইলিশ ধরা পড়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। এভাবে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে ধারদেনা পরিশোধ করে গত কয়েক মাসের লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. বাদশা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ঢাকার মোকামের মালিকদের কাছ থেকে ইলিশ সরবরাহের চুক্তির বিপরীতে আড়তদাররা বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই চুক্তি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মৎস্য বন্দর, মনপুরা, হাজিরহাট, রামনেওয়াজ, পঁচাকোড়ালিয়া ও কলাতলী মাছঘাটেও ইলিশের কেনাবেচা বেড়েছে। তবে মাছের সরবরাহ বাড়লেও এখনো দাম পুরোপুরি কমেনি।
মনপুরা মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতা আমির হাওলাদার জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৭০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে নদীতে ইলিশের সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কমে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার নদী থেকে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন সন্তোষজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, বর্তমানে ইলিশের মৌসুম চলছে। নদী ও সাগরে যেভাবে ইলিশ ধরা পড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় সরকার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার। এর বাইরে অনিবন্ধিত ও বেসরকারি জেলের সংখ্যাও দুই লাখের বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলার ৯০ হাজার ২১৩ জন নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও ১৩ হাজার ৬০০ কর্মহীন জেলেকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
নদীতে ইলিশের এই প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে শুধু জেলে পরিবার নয়, মাছঘাট, আড়তদার, পরিবহন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আরও গতি ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।


































