বঙ্গোপসাগর ঘিরে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান তারেক রহমানের
Published : ১১:১৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬
বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের আগামী পাঁচ বছরের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার এখন প্রতিশ্রুতির পর্যায় পেরিয়ে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতিমালার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিমুখী বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের মায়ের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন কৃষিসেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার কথা রয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ খাতে সহায়তা দেওয়া হবে। তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলে ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষিকে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ সহজ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, গ্রামীণ উদ্যোক্তা, কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পানি ব্যবস্থাপনায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
বঙ্গোপসাগর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এই অঞ্চলের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ।





























