নেপালে হিমলুং শিখরে তুষারধস, নিহত ১৫ অভিযাত্রীকর্মী
Published : ১১:২১, ৩ অক্টোবর ২০২৬
নেপালের হিমলুং শিখরের বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত ১৫ জন অভিযাত্রীকর্মী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হলেও জীবিত অবস্থায় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (২ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং জানান, গত রোববার ভোরে চীন সীমান্তের কাছাকাছি ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং শিখরের বেস ক্যাম্পে তুষারধসটি আঘাত হানে। ওই সময় পরবর্তী পর্বতারোহণ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে নেপালি কর্মীরা তাঁবু স্থাপন ও রশি বাঁধার কাজ করছিলেন।
তুষারের নিচে চাপা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ জনের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধারকারীদের চার মিটারেরও বেশি গভীর তুষারের স্তর সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর রোববার দুই পর্বতারোহণ গাইডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সোমবার রান্নাঘরের দুই কর্মীর মরদেহ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মরদেহগুলো হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তুল সিং গুরুং বলেন, নিখোঁজ কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম হওয়ায় উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তুষারধসের সময় কোনো বিদেশি পর্বতারোহী বেস ক্যাম্পে পৌঁছাননি বলে জানা গেছে। ফলে নিহতদের সবাই স্থানীয় অভিযাত্রীকর্মী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেপালে এর আগেও তুষারধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালে এভারেস্টে তুষারধসে ১৬ জন নিহত হন। এর পরের বছর ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে এভারেস্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়।
বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে আটটির অবস্থান নেপালে। দেশটির পর্যটন ও অর্থনীতিতে পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৭ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত অভিযানের প্রস্তুতির জন্য হিমলুং শিখরও পর্বতারোহীদের কাছে একটি পরিচিত গন্তব্য।































