আজ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের পে ফিক্সেশন শুরু
Published : ১১:২৬, ৫ অক্টোবর ২০২৬
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের কার্যক্রম আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনের পাশাপাশি জুলাই থেকে প্রাপ্য কয়েক মাসের বকেয়াও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না; গ্রেড, মূল বেতন, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারিত হবে।
অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আইবাস প্লাস প্লাসের বিশেষ পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে। এজন্য অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া মূল বেতনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার রেকর্ডও যাচাই করা হবে। এসব তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী নতুন মূল বেতন চূড়ান্ত করা হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্য এবং নতুন বেতন কার্যকরের সময় বিবেচনা করে বকেয়া অর্থের হিসাব করা হবে। ফলে একই গ্রেডের হলেও ব্যক্তিভেদে বকেয়ার পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
সরকার গত ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন বেতন পুরোপুরি একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম দুই ধাপ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পে ফিক্সেশন বাস্তবায়নে কিছু জটিলতাও দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে আগের কাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা একাধিক উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে কারিগরি ও প্রশাসনিক কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব জটিলতা পর্যালোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছে অর্থ বিভাগ।
অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য ও নথির মধ্যে অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তাই পে ফিক্সেশন জমা দেওয়ার আগে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে বলা হয়েছে।
পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই থেকে প্রাপ্য বকেয়া অর্থের হিসাবও নির্ধারণ করা হবে। ফলে চলতি মাসেই নতুন বেতনের প্রথম সুবিধা ও কয়েক মাসের বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।































