শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Published : ১৯:৫৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন ও প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এ জন্য ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই পাবে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এ ধরনের প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘আনন্দময় শিক্ষা’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে না দেখে শিক্ষকের সক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু কর্মসংস্থান নয়; নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মানকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে নীতিমালার ভিত্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগের কথা জানান তিনি। শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পেতে হয়রানি বন্ধ করে যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।
































