মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা মুফতি ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি

বিজনেস ডেইলি ডেক্স

Published : ১১:৩১, ২৪ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন।

গত ২০ জুন মামলাটি করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার, যিনি নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার এই পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। একটি ইউটিউব ভিডিওতে তার দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, এসব বক্তব্য ও পোস্টের মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে মামলাটি ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান দাবি করেছেন, জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো সদস্য নন। একই বক্তব্য দিয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, জালাল পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

আবু সাঈদ আরও বলেন, “মুফতি ফয়জুল করীম একজন শ্রদ্ধেয় রাজনৈতিক নেতা। তিনি বিগত সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এমন মামলা হওয়ায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

অন্যদিকে, কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম.এম. বিলাল হোসাইন মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।”

অভিযোগের বিষয়ে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বলেন, “আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেই আমি মামলা করেছি। আমি যে যুবদল কমিটির সদস্য, সেটি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি, কেন্দ্রীয় যুবদলের নয়।”

মামলা গ্রহণের বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, “আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি কোনো পদ-পদবির বিষয় নয়।”

শেয়ার করুনঃ
Advertisement