আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সারাদেশে পুলিশের ‘জরুরি বার্তা’

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সারাদেশে পুলিশের ‘জরুরি বার্তা’ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:৪৯, ১৯ জুন ২০২৬

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সারাদেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিদের কাছে একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই বার্তায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ব্যানার নিয়ে মিছিল কিংবা অন্যান্য কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারেন।

বার্তায় আরও বলা হয়, এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–এর কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এ আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা পেয়েছেন এবং রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

তবে তিনি বলেন, “স্পেসিফিক কোনো থ্রেট বা শঙ্কার তথ্য নেই। সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে ১০ মহররম (আশুরা) এবং ২৩ জুনের কর্মসূচি রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”

তিনি আরও জানান, রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চেকপোস্ট কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি Sheikh Hasina দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না।

এদিকে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement