জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের অন্যতম স্থপতি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
Published : ২৩:২৮, ৭ জুন ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি, যার অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শনিবার রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর নেতৃত্ব ও কৌশলগত দূরদর্শিতা যুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি উল্লেখ করেন, তেলিয়াপাড়া সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবেই যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নির্ধারণ এবং সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, যা মুক্তিযুদ্ধের কার্যকর সংগঠনে বিশেষ অবদান রাখে।
আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান দেশকে সামরিক শাসন থেকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন সাদাসিধে, সৎ ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়েও জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং উন্নয়ন দর্শন বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। তাঁর নেতৃত্বে দেশ উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও জনগণের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যেতে শুরু করেছিল।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
































