গণতন্ত্র সুসংহত ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্র সুসংহত ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল আজ রাজধানীর একটি হোটেলে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৫১, ২৫ জুলাই ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই সরকার কাজ করছে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘Bangladesh and a Changing World: Uncharted Times, Emerging Orders, and the Politics of Care’।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার অবদানও স্মরণ করেন।

নিজেকে একজন পেশাদার বিশ্লেষক নয়, বরং মাঠের রাজনীতির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেশের মানুষ, রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি তৈরি হয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাসহ বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়ম দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের শক্তি, নতুন সুযোগ এবং সঠিক নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

মন্ত্রী জানান, অর্থনীতি পুনর্গঠন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটেও বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে বৈশ্বিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি জরুরি।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement