সব ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে সংবিধান: তথ্যমন্ত্রী
Published : ০২:০৩, ২৫ জুলাই ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার প্রদান করেছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা বিভেদের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে এ দেশে বসবাস করেন।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মতোই সমান সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করেন। যারা ধর্ম বা রাজনীতির নামে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশ, ধর্ম ও মানবতার বিরুদ্ধে কাজ করে।
তিনি বলেন, সনাতন ধর্ম হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ধারক। মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধর্মের আধ্যাত্মিক নেতারা সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করে আসছেন। প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকেন, কারণ ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করলেও সবার লক্ষ্য একই পরম সত্যের অনুসন্ধান।
জহির উদ্দিন স্বপন দেশি-বিদেশি অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে কিংবা সমাজে বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও একটি অসাম্প্রদায়িক, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান দেশ এবং যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়, তারা দেশের সার্বভৌমত্বের চেতনার পরিপন্থী।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে কোনো নাগরিককে দ্বিতীয় শ্রেণির হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর।


































