আসামে বাঙালি মুসলিমদের উচ্ছেদ, নিন্দা সারজিসের
Published : ১৭:৪০, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ভাঙার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, আসামে কর্তৃপক্ষের অভিযানে ১ হাজার ১০০টির বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১০টির বেশি মসজিদও ভাঙা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে কয়েকটি ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো।
সারজিস আলমের ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ সরকারি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের সঙ্গে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ করায় পরিবারগুলো অসহায় অবস্থায় পড়েছে। কিছু পরিবারকে আটককেন্দ্রে রাখার খবরও পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে ভারতে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার অভিযোগ তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, গত এক দশকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক অন্যত্র পাঠানো এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলেও তিনি লেখেন।
১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম ঘটনাটিকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
পোস্টে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান সারজিস। একই সঙ্গে জাতি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে ভারতের সব নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।’





























