যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের

যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের ছবি: সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি

Published : ১৮:০২, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর চার সংসদ সদস্য। তাঁদের দাবি, বিএনপি নেতাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াত নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসূল।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের পরামর্শ ও সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, জেলা প্রশাসক বিএনপি নেতাদের দেওয়া তালিকা অনুসারে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ডিলার নিয়োগে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তালিকায় মাদক মামলায় আটক ব্যক্তির স্ত্রী, একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন ডিলারের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়। জামায়াত নেতাদের দাবি, মনিরামপুরের মেসার্স নাফিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিজুর রহমান মফিজের ছেলে। ঝাঁপা ইউনিয়নের মেসার্স লাকি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোলাম আলী স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ ছাড়া শ্যামকুড় ইউনিয়নের মেসার্স জামান ট্রেডার্সের মালিক সালাউদ্দিন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে বলে দাবি করা হয়। মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজের মালিক তবিবর রহমান রুমু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর খালাতো ভাই এবং সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর কর্মী বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। দোকান না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

চৌগাছা উপজেলার মেসার্স চৌগাছা ট্রেডার্সের মালিক সেলিম রেজা আউলিয়ার সঙ্গে পৌর বিএনপির সভাপতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। নওয়াপাড়ার মেসার্স মনিরুল ফারাজীর মালিক বিএম মনিরুল আলম ফারাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার ফারাজীর ছেলে বলেও দাবি করেন তাঁরা। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, ৯৩টি ইউনিয়নেই বিএনপি নেতাদের দেওয়া তালিকা অনুসারে নিয়োগ হয়েছে এবং তালিকায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসূল বলেন, সার-বীজ মনিটরিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্যের এবং উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান উল্লেখ করে তিনি কমিটিতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিতে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন।

গোলাম রসূল আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির বাইরের কেউ ডিলারশিপ পাবেন না। তিনি বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরাও অতীতে রাজনৈতিক মামলায় হয়রানি ও বাড়িছাড়া হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁদের দাবি ছিল, প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং সততা ও দক্ষতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হোক। কিন্তু তাঁদের কোনো নেতাকর্মী ডিলারশিপ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জামায়াতের অভিযোগ অসংলগ্ন। বিএনপির নেতাকর্মীরা বেশি আবেদন করায় তাঁদের অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, যাচাই-বাছাই করেছে জেলা প্রশাসন এবং দলীয়ভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য না হলে আবেদনকারীরা ডিলারশিপ পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী ও প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement