অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের রূপকথা, ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের রূপকথা, ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় ছবি: সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক

Published : ১৫:১৩, ১৭ আগস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল পুরো ম্যাচজুড়েই দাপট দেখিয়ে তুলে নিয়েছে স্মরণীয় এই জয়।

বাংলাদেশের এই সাফল্য নিয়ে সরব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়ান এই পরাজয়কে ‘চোখ কপালে ওঠার মতো বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে এটিকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক পরাজয় হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ১২ মাসে ২০ টেস্ট খেলার দীর্ঘ যাত্রার শুরুতেই এমন বিপর্যয় তাদের জন্য বড় ধাক্কা বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ক্যামেরন গ্রিনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি ব্যবধান কমালেও অস্ট্রেলিয়াকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বাংলাদেশের জয়কে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ‘অপমানজনক’ হিসেবে তুলে ধরে লিখেছে, ম্যাচের কোনো পর্যায়েই বাংলাদেশ স্বাগতিকদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। আর মেলবোর্নভিত্তিক হেরাল্ড সান তাদের শিরোনাম করেছে—‘ডিজাস্টার ইন ডারউইন’।

বাংলাদেশের জয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা দেখা গেছে। ভারতের রাজনীতিক ও ক্রিকেটপ্রেমী শশী থারুর এই জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রশংসা করে বিশেষভাবে হাসান মাহমুদের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, হাসান মাহমুদ অস্বাভাবিক কিছু করার চেষ্টা না করে ধারাবাহিকভাবে সঠিক লেংথে বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ড্যামিয়েন ফ্লেমিংও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, ডারউইনের এই ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সমন্বয় দেখা গেছে।

আইসল্যান্ড ক্রিকেটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের জয় নিয়ে রসিকতা করেছে। তারা ইংল্যান্ডকে খোঁচা দিয়ে জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড যতগুলো টেস্ট জিতেছে, বাংলাদেশ এখন এক ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ায় ঠিক ততগুলো টেস্ট জয় পেয়েছে।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য সফরকারীদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। এক উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তানজিদ হাসান, হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তানজিদের শতক, হাসানের কার্যকর পেস আক্রমণ এবং মিরাজের নিয়ন্ত্রিত স্পেল বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করে।

ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও বাংলাদেশের জয় প্রাপ্য ছিল বলে স্বীকার করেন। এই জয় শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশের টেস্ট সক্ষমতারও বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট পেল নতুন এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ডারউইনের এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও আত্মবিশ্বাসকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement