৮০-তে পা দিলেন ‘আম্মাজান’খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম

৮০-তে পা দিলেন ‘আম্মাজান’খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১৪:৫৭, ১৭ আগস্ট ২০২৬

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং ‘আম্মাজান’খ্যাত শবনম আজ জীবনের ৮০ বছরে পা রাখলেন। ১৯৪৬ সালের এই দিনে ঢাকার নবাবপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম ঝর্ণা বসাক।

ছোটবেলায় সিনেমায় অভিনয়ের কথা কখনো ভাবেননি শবনম। ভাইবোনদের সঙ্গে খেলাধুলা করেই সময় কাটত তার। বড় বোন সন্ধ্যা বসাকের নাচ দেখে নৃত্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তিনি ভর্তি হন বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে।

পরিবারের পরিচিত পরিচালক এহতেশামের একটি চলচ্চিত্রে কোরাস গানের দৃশ্যে অভিনয়ের সুযোগ পান সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়। সেই থেকেই ক্যামেরার সামনে তার যাত্রা শুরু। তখন অবশ্য চলচ্চিত্র সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা ছিল না।

পরে একটি গানের দৃশ্যে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন ঝর্ণা। এরপর মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। এই ছবির মাধ্যমেই ‘শবনম’ নামে পরিচিতি পান তিনি।

‘হারানো দিন’-এর সাফল্যের পর ‘চান্দা’, ‘তালাশ’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শবনম। অভিনয়ের ব্যস্ততায় শেষ পর্যন্ত তার পড়াশোনাও আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের উর্দু চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন শবনম। সেখানে তিনি পান ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি। ক্যারিয়ারে বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে প্রায় ১৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রের টাইটেল চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন শবনম। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে এরপর আর বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা যায়নি তাকে।

অভিনয়জীবনে পাকিস্তানের মর্যাদাপূর্ণ নিগার পুরস্কার ১২ বার অর্জন করেছেন শবনম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এ আজীবন সম্মাননার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দুই বাংলার দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করা শবনম আজও বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় নাম।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement