দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা ট্রাম্পের

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা ট্রাম্পের কিম জং উনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:১২, ১৭ আগস্ট ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দিতে সিউলের অনাগ্রহের বিষয়টিও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এসব মহড়ার অধিকাংশ খরচ যুক্তরাষ্ট্র বহন করে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, মহড়াগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ এবং শত্রুভাবাপন্ন বার্তা তৈরি করে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের জোটে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান ট্রাম্প। তবে সিউল এতে সম্মতি না দিয়ে ‘না, ধন্যবাদ’ বলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল ব্লু হাউস জানিয়েছে, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে অনুকূল সম্পর্ক তৈরি হলে তা অর্থবহ সংলাপের পথ খুলে দিতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে সিউল। তবে উত্তর কোরিয়া এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক নেতারা গত সপ্তাহে ১১ দিনব্যাপী ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার ঘোষণা দেন। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌথ মহড়ার পরিধি কমানোয় অর্থনৈতিক সাশ্রয় তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। তবে এর ফলে দুই দেশের সামরিক জোটে সমন্বয়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া এবং এশিয়ায় সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি শনাক্ত করেছে। ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সিউলের জন্য একই সঙ্গে আশা ও উদ্বেগের বার্তা বহন করছে। একদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্পকে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে কিমের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কের দাবি নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার সরাসরি সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা না দেওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষও স্পষ্ট হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা চলাকালে ট্রাম্প মহড়া স্থগিত করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও এসব মহড়ার পরিধি কমানো হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় ও দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের খরচ নিয়েও ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন। তবে উত্তেজনা কমাতে সিউল যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ‘শান্তিপ্রণেতা’ হিসেবে তুলে ধরার মতো উদ্যোগ নিয়েছিল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement