মার্কিন ঘাঁটির বিমানে ধুলোর ওপর সেনাদের ব্যঙ্গাত্মক বার্তা, ইসরায়েল নীতি নিয়ে ক্ষোভের ইঙ্গিত
Published : ১৪:৫২, ১৭ আগস্ট ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সামরিক বিমানের ফ্ল্যাপে জমে থাকা ধুলোর ওপর ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতিবাদী বার্তা লিখে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য। এসব বার্তায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ধুলোর ওপর আঙুল দিয়ে লেখা এসব বার্তার মধ্যে ছিল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে মার্কিন নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। অন্য একটি বার্তায় ইসরায়েল যা বলে, যুক্তরাষ্ট্রকে তা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়—যা মূলত অতিরিক্ত আনুগত্যের অভিযোগকে ব্যঙ্গ করেছে।
‘Operation Epstein Fury’ নামে লেখা আরেকটি বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের নামকে জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত করে বিদ্রূপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘Peace Deal #64 Incoming’ বার্তার মাধ্যমে বারবার শান্তি উদ্যোগ নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
‘ALL THIS FOR THE HOLY LAND’ বার্তায় ইসরায়েল বা ‘পবিত্র ভূমি’র স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন এত সামরিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আর ‘I LOVE ISRAEL I AM A Good Goyim’ বার্তায় অতিরিক্ত আনুগত্যের ভঙ্গি ব্যবহার করে মূলত সেই আনুগত্যকেই ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব লেখা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। বরং এগুলো ঘাঁটিতে কর্মরত কিছু সেনাসদস্যের ব্যক্তিগত ক্ষোভ, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়ে ক্লান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতির প্রতি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
তবে সামরিক ঘাঁটির মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের প্রকাশ্য বার্তা নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে মতপার্থক্য বা হতাশার সম্ভাব্য ইঙ্গিত বহন করে। তবে এসব ব্যক্তিগত বার্তার ভিত্তিতে পুরো মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
এখন পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।































