টঙ্গীর বিভিন্ন বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, নজরদারিতে নারী-পুরুষের নেটওয়ার্ক
Published : ১১:৩০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর কাছাকাছি অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কারণে গাজীপুরের টঙ্গী দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে নারী-পুরুষের একটি অংশ জড়িত। কেউ মাদক সংগ্রহ, কেউ পরিবহন আবার কেউ খুচরা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক মাঠ ও কেরানীরটেকসহ কয়েকটি এলাকায় মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলায় কিছু নারীর নাম এসেছে। তাঁদের মধ্যে মোমেলা বেগম, ময়না খাতুন, আফরিনা আক্তার, কুলসুম ও কারিমা বেগমের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোমেলা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ তাঁকে গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ব্যাংক মাঠ এলাকার ময়না খাতুনের বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও মামলা থাকার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
একই এলাকায় ‘বড় আপা’ নামে পরিচিত আফরিনা আক্তারের বিরুদ্ধেও মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও এ কাজে সহযোগিতা করেন।
কেরানীরটেক এলাকায় কুলসুম ও কারিমা বেগমের বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুলসুমের বোন নার্গিসকে সম্প্রতি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারিমা বেগমকেও গত ১৮ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
টঙ্গীর বাইরে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ও লক্ষ্মীপুরা এলাকাতেও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার ডালিয়া বেগম এবং লক্ষ্মীপুরা এলাকার তাহমিনা ও আশার নাম স্থানীয়ভাবে উঠে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব এলাকায় মাদক কারবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না থেকে একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। মাদক সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকার তথ্য তারা পেয়েছেন।
অভিযান জোরদারের কথা পুলিশের
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়াত হোসেন বলেন, মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। গত আট মাসে এসব অভিযানে মাদক উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কয়েকটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধারের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে।
টঙ্গীসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
স্থানীয়দের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থের প্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ একসঙ্গে কার্যকর করা গেলে টঙ্গী ও গাজীপুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
































