সালমান শাহর ৩০তম প্রয়াণবার্ষিকী: আজও রহস্যে ঘেরা এক তারকার অকালমৃত্যু

সালমান শাহর ৩০তম প্রয়াণবার্ষিকী: আজও রহস্যে ঘেরা এক তারকার অকালমৃত্যু ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১২:১৯, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৯৬ সালের এই দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) এক শুক্রবারের সকালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার এই প্রয়াণ আজও দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি রহস্য হয়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্যারিয়ারেই ঢালিউডে এক অনন্য উচ্চতা অর্জন করেছিলেন। মৃত্যুর তিন দশক পার হলেও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আজও উদঘাটিত হয়নি এবং মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

মৃত্যুর আগের দিন ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসিতে ডাবিং চলাকালীন সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের খুনসুটি দেখে ক্ষুব্ধ হন সালমানের স্ত্রী সামিরা। পরিচালক বাদল খন্দকার ও সালমান তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি অসন্তুষ্ট থাকেন। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে পরিচালক বাদল খন্দকার সালমানকে তার নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসেন।

কালরাতের পরের সকাল ঘটনার দিন সকালে সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু দারোয়ান ও স্ত্রী সামিরা তাকে ঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেন। আয়কর ফাইলের সইয়ের অজুহাতে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয় এবং জানানো হয় যে সালমান তখনও ঘুমাচ্ছেন।

অপ্রত্যাশিত ফোন ও করুণ দৃশ্য সকাল ১১টার দিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর কাছে একটি জরুরি ফোন আসে। তিনি দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছে দেখেন, সালমান খাটে উপুড় হয়ে শুয়ে আছেন এবং বিউটি পারলারের কিছু কর্মী তার হাত-পায়ে সরিষার তেল মালিশ করছে। সেসময় সালমানের হাত-পায়ের নখ নীল বর্ণ ধারণ করেছিল।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিতর্ক বাসা থেকে দ্রুত হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করলেও সালমানের পরিবার শুরু থেকেই এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তখন এটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

পরিচালকদের মতে, জীবনের শেষ দিনগুলোতে পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে সালমান শাহ মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন। আইনি জটিলতা ও রহস্যের সুরাহা আজও না হলেও ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো কালজয়ী সিনেমাগুলোর কল্যাণে সালমান শাহ ভক্তদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement